দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য বর্তমান বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, জাতীয় উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নকে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
জরিপে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য স্তরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চাহিদা বিবেচনায় অংশগ্রহণকারীরা কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের জন্য উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
জরিপে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের পথে দুর্নীতি, অপচয়, দুর্বল পরিকল্পনা, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিমত হলো, শুধু বাজেট বৃদ্ধি করলেই হবে না; বরং বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতি সম্ভব হবে।