চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একই দিনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দুটি পৃথক নির্দেশনামূলক চিঠি জারি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
প্রথম চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান ইজারা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা অথবা প্রয়োজন হলে তা বাতিল করার বিষয় উল্লেখ করা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের দাবি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি ও আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল), যারা সাম্প্রতিক সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়েছে।
এনসিটি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার উদ্যোগ আগের সরকারের সময় শুরু হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সরকারের সময় বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে এবং তা নিয়ে পুনরায় অগ্রগতি শুরু হয়।
এদিকে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপও টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে যে তারা বন্দরের জন্য আরও বেশি রাজস্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তবে চলমান আলোচনার কারণে তাদের প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিক বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বন্দর খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একপক্ষ মনে করে, লাভজনক ও সফলভাবে পরিচালিত একটি টার্মিনাল দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই থাকা উচিত। অন্যদিকে আরেক পক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর যুক্ত হলে বন্দরের দক্ষতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
ফলে এনসিটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা সফল হবে কি না, নাকি ভবিষ্যতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে—সেই সিদ্ধান্তই চট্টগ্রাম বন্দরের পরবর্তী পরিচালন কাঠামো নির্ধারণ করবে।
You cannot copy content of this page