1. imahfujul520@gmail.com : admin :
সর্বশেষ :
শেখ হাসিনাই ভালো আছিলো গরিবের লাইগা, বহু ঘর কইরা দিছে হাসিনার সরকার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ, পরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে নতুন করে আলোচনা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন অর্থ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পক্ষে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইউরোপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় দুই অভিযুক্ত রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা, সংসদীয় পর্যায়েও বাড়ছে জল্পনা দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও দুর্ঘটনায় নিহত ১০

দেশের অগ্রগতির কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ মে, ২০২৩
  • ৬৬৫ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina বলেছেন, এ ভূখণ্ডে বাঙালি জাতির অর্জন, সংগ্রাম ও সাফল্যের ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত Bangladesh Awami League-এর নেতৃত্বের সঙ্গে। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তী উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই দলটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় মাটি ও মানুষের সংগঠন হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং জনগণের শক্তিই দলের মূল ভিত্তি। ’৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ’৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬ সালের ছয়দফা আন্দোলন এবং ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান—এসব ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে দলটি বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন Sheikh Mujibur Rahman-কে, যিনি বাঙালি জাতির মুক্তির পথপ্রদর্শক। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন Maulana Abdul Hamid Khan Bhashani, Shamsul Huq, Huseyn Shaheed Suhrawardy এবং জাতীয় চার নেতাসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের।

তিনি বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আয়োজিত সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। তরুণ নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান শুরু থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব পরবর্তীতে দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো বাঙালির জাতীয় চেতনা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। কিন্তু সে সময় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সেই গণরায় উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে এক গভীর ট্র্যাজেডি। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তী সময়ে নানা ষড়যন্ত্র, সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং দেশে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার নতুন দিগন্ত সূচিত হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে টানা কয়েক মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এই সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিল্পায়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একইসঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে এখনো বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দলের নেতা-কর্মীদের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরো সংবাদ
© 2026 Justice BD. All rights reserved.