ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এসব সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও সাইবার অপরাধীরা নানা কৌশলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) গ্রাহকসেবা ব্যবস্থার একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়েছিল হ্যাকাররা। পরে নিরাপত্তা গবেষক ও ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীদের অভিযোগের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে ত্রুটিটি সংশোধনের কথা জানিয়েছে মেটা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা প্রথমে মেটার এআইচালিত চ্যাটবট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নতুন ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করত। এরপর সেই নতুন ই-মেইল ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড রিসেটের আবেদন জানানো হতো। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা সহজেই অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর মূল ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশের প্রয়োজন পড়েনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হামলার পুরো কৌশলটি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, হামলাকারীরা প্রথমে ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান এমনভাবে প্রদর্শন করছিল, যেন তারা ভুক্তভোগীর পরিচিত কোনো এলাকা বা স্থান থেকে ইনস্টাগ্রামে লগইন করেছে। এরপর তারা এআইচালিত গ্রাহকসেবা চ্যাটবটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে নতুন একটি ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করার অনুরোধ জানায়। নতুন ই-মেইলে পাঠানো যাচাইকরণ কোড পাওয়ার পর তারা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইনস্টাগ্রামের গ্রাহকসেবা ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াই যেকোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআইভিত্তিক সিস্টেমকে যখন অ্যাকাউন্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সামান্য ত্রুটিও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
You cannot copy content of this page