বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এখন নতুন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে—ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের AI মডেল চালানোর জন্য যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করছে, তা অনেক দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে। অনেক অঞ্চলে স্থানীয় সরকার ইতোমধ্যে নতুন ডেটা সেন্টারের অনুমোদন সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, AI সার্ভারগুলো শুধু বিদ্যুৎই নয়, শীতলীকরণের জন্য বিপুল পরিমাণ পানিও ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে পানিসংকট আরও বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও তীব্র করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এদিকে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দাবি করছে, তারা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং “গ্রিন ডেটা সেন্টার” তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, বর্তমান গতিতে AI ব্যবহার বাড়তে থাকলে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে না।
International Energy Agency এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
অন্যদিকে European Union ইতোমধ্যে নতুন ডিজিটাল ও এনার্জি নীতিমালা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষা—দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, AI প্রযুক্তি যেমন অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে, তেমনি এর পরিবেশগত প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আগামী বছরগুলোতে “টেক বনাম ক্লাইমেট” বিতর্ক আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।