1. imahfujul520@gmail.com : admin :
সর্বশেষ :
শেখ হাসিনাই ভালো আছিলো গরিবের লাইগা, বহু ঘর কইরা দিছে হাসিনার সরকার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ, পরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে নতুন করে আলোচনা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন অর্থ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পক্ষে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইউরোপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় দুই অভিযুক্ত রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা, সংসদীয় পর্যায়েও বাড়ছে জল্পনা দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও দুর্ঘটনায় নিহত ১০

ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯
  • ৪৫৯ বার পঠিত

৭১ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ । বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের ধারাবাহিকতায় দলটির নেতৃত্বেই এসেছে বাঙালির সর্বোচ্চ অর্জন—স্বাধীনতা।

ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত প্রথম কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি সে সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত হতে থাকে এবং ১৯৫০-এর দশকেই এটি পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের দাবি—সবক্ষেত্রেই দলের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনার প্রতিফলন ঘটানো হয়। স্বাধীনতার পর দলটির নাম হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে জনগণ তাদের আস্থা প্রকাশ করে। কিন্তু সেই গণরায় উপেক্ষা করে সামরিক শাসকগোষ্ঠী দমননীতির পথ বেছে নেয়, যা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপ নেয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-কে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের সময় শুরু হয়। এ সময় দলটি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় এবং সাংগঠনিক বিভাজনও দেখা দেয়।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দেশে ফিরে তিনি সংগঠনকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রেখে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এরপর ধারাবাহিকভাবে একাধিক মেয়াদে সরকার পরিচালনা করে যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতিতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক ও সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্দর উন্নয়ন, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং নগর অবকাঠামো আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। পদ্মা ব্রিজ, মেট্রোরেল, টানেল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প দেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Bangabandhu Satellite-1 উৎক্ষেপণের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

সামাজিক উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে—দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং শিল্প খাতের সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে পিছিয়ে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ আজ দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ধারা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরো সংবাদ
© 2026 Justice BD. All rights reserved.