1. imahfujul520@gmail.com : admin :
শিরোনাম:
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্ধ’ আস্থা? ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক অবসরের টাকা পাচ্ছেন শিক্ষকরা, ঘুচছে বছরের পর বছর প্রতীক্ষার ক্লান্তি! ডারউইন-বিজয় ও বদলে যাওয়া বাংলাদেশ: অ্যাওয়ে টেস্টে পরাশক্তি হয়ে ওঠার রূপকথা বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট: চুল পড়ায় কতটা উপকারী ? ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিরাপত্তা চেয়ে পিয়ার জিডি, তদন্তে পুলিশকে আদালতের নির্দেশ আদালতের নির্দেশে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে জাহের আলভীকে চার দিনে মাজারে দানের পরিমাণ ছাড়াল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা গোলাপগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দীপন গ্রেপ্তার ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট দখল

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অন্ধ’ আস্থা? ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৯ বার পঠিত
সম্প্রতি তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ থেকে সরিয়ে অন্য একটি বিমানে তুলে নেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছে ইরান! কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন কোনো আগাম তথ্য ছিল না। পুরো পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছিল কেবল ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে। আর এই ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে একটি প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে— মার্কিন প্রশাসন কি ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করছে?

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের চাঞ্চল্যকর দাবি

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলন চলার সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা সরাসরি হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। তাদের দাবি ছিল, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।
হামলার ধরন সম্পর্কে তারা জানিয়েছিল, যাত্রাপথে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিমান লক্ষ্য করে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (Shoulder-fired missile) ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া স্নাইপার দিয়ে গুলি করা কিংবা কোনো বড় জনসমাবেশে ভাড়াটে হামলাকারীর মাধ্যমে ছুরিকাঘাতের আশঙ্কার কথাও মার্কিন প্রশাসনকে জানায় ইসরায়েল।

তথ্য যাচাই ছাড়াই সিদ্ধান্ত!

চাঞ্চল্যকর ব্যাপার হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইসরায়েলের দেওয়া এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি। এমনকি আয়োজক দেশ তুরস্কের এক কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এমন কোনো হামলার বিন্দুমাত্র প্রমাণ ছিল না এবং তারা এই বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন।
তা সত্ত্বেও কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি ছিল না যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পের ফেরার বিমান বদলে ফেলে। এই ঘটনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, নিজস্ব পর্যালোচনার চেয়ে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা প্রবল প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও গোয়েন্দা মতপার্থক্য

সূত্রগুলোর মতে, ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের এই ধরনের গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের আগে থেকেই এমন তথ্য আসতে শুরু করে। পরবর্তীতে চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তীব্র করার যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল, তার পেছনেও এই সতর্কবার্তাগুলোর বড় ভূমিকা ছিল।
অথচ এ বছরের শুরুতেই খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল যে, ইরান সক্রিয়ভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। কিন্তু ইসরায়েল বারবার দাবি করতে থাকে যে, তেহরান একটি মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের গোয়েন্দাদের এমন স্পষ্ট মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের কথায় ভরসা রেখে ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষের নিশ্চুপ অবস্থান

ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের এই একচ্ছত্র প্রভাব এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেও জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুমকি বৃদ্ধি পাওয়া এবং সাম্প্রতিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান সংক্রান্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য সাধারণত সিআইএ বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) কাছে পৌঁছানোর পর তা বিশ্লেষণ করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দারা সবসময় ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য সরাসরি মাঠে গিয়ে যাচাই করতে পারেন না, বরং অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে এর সত্যতা মেলানোর চেষ্টা করেন। তবে সাম্প্রতিক এসব ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের চেয়েও ইসরায়েলের ওপরই যেন বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে হোয়াইট হাউস।

 

শেয়ার করুন

একই ধরনের আরো সংবাদ
© 2026 Justice BD. All rights reserved.

You cannot copy content of this page